যে কোনো সময় লেখা পোস্ট করা যায় । লিঙ্ক - https://webtostory.com/to-post-the-text/

কিছু সমালোচনার সমালোচনা - আবীর মহাপাত্র

 
story and article

সমালোচনা, নিন্দা প্রায় সবকিছুরই হতে পারে। আমি কিছু সমালোচনার সমালোচনা করতে চাই –যেমন নারীদের রান্না করা, সংসার সামলানোর কাজে আটকে রাখার জন্য সমালোচনা হয়, আবার মা দুর্গা যখন হাতে অস্ত্র তুলে নেন, তখনও নিন্দুকেরা বলে, সকল পুরুষে মিলে যেখানে হেরে যায়, সেখানে একজন নারীকে তারা কি করে পাঠায়!

সাথে তারা এও যোগ করে, এইভাবেই নারীকে ‘মায়ের জাত’, ‘ত্যাগের প্রতীক’ ইত্যাদি বলে পুরুষ নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধি করে।আসলে নারী কে শক্তি রূপে পূজা করলেও এনারা খুঁত খুঁজতে ব্যস্ত থাকেন। আবার ঘরের কাজে ব্যস্ত থাকলে 

সেই নারীদের জন্য পুরুষদের দোষারোপ করেন। আবার পরিচিতদের মধ্যে যখন কারও মেয়ে, পরীক্ষায় সব ছেলেদের থেকে ভালো ফল করে – অনেক ব্যক্তি সেই ছেলেদের বলেন, “একটা মেয়ের কাছে হেরে গেলি!”এবার আসি ‘লক্ষ্মীর পাঁচালী’ তে।

সেখানে আবার নারীদের যখন খুশি ঘুমানো, যেমন সন্ধ্যা কালে ও অন্যদের আগেই খেয়ে নেওয়া কে ভুল অভ্যাস বলা হয়েছে। যদিও একটিও ভালো অভ্যাসের বইয়ে যখন খুশি ঘুমানো কে স্বাস্থ্যকর বলা হয়েছে – এমনটা কেউ দেখাতে পারবেন না।


 বিশেষ করে দিবা নিদ্রার নিন্দা সকলেই করেন। এখন লক্ষ্মী পুজোতে ‘লক্ষ্মীর পাঁচালী’ শুধু নারীদের উদ্দেশ্যে লেখা – এটা মানতে না পারলে আর কিই বা বলা যাবে। এরপর বড় অভিযোগ আছে, আগেই খেয়ে নেওয়া নিয়ে। নারীদের কেন স্বামীর পর খেতে হবে? – এই প্রশ্ন উঠছে। আচ্ছা স্বামীর পর খেতে হবে – একথা কোথায় বলা আছে?

বলা আছে আগে খেয়ে নেওয়া নিয়ে।আচ্ছা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সভাপতি কেন শেষে বক্তব্য রাখেন? নিমন্ত্রণ বাড়িতে কর্তা কেন অতিথিদের খেতে দেওয়ার পর খান? যাইহোক, সকলে একসাথে তো খাওয়া যেতেই পারে। মানে, যে যখন খুশি এলেন, খাবার খেলেন, ঘুমিয়ে পড়লেন – এরকমটা আশাকরি কোনও বাড়িতে হয় না। এ স্বাধীনতায় আনন্দ নেই।

এবার মেয়েদের পিরিয়ড এ মেয়েদের কিছু নিয়ম মানতে হয়, সেই নিয়ে দু চার কথা বলি। এটার সাথেই আরেকটা বিষয় যোগ করা যেতে পারে, যেটা হল স্নান না করলে বাড়িতে কে সন্ধ্যা প্রদীপ জ্বালাবেন? – যেহেতু আমার বাড়িতে আমি অর্থ উপার্জন করি ও আমার স্ত্রী সংসার সামলান, তাই ওইসব দিনগুলিতে আমি তার কথামতো সংসারে অনেক কাজ করে দিই। ওইদিন গুলো আমাকে বাইরে সমেত ঘরেও কিছু কর্ম করতে হয়, আমার স্ত্রী বাড়তি বিশ্রাম পান।

এখন এমনটাও হয়, যে একদিন দুজনেই স্নান করলাম না, সেক্ষেত্রে আমিই সন্ধ্যা দিই, আমার স্ত্রী দিতে চান না। তবে যদি কোনও নারী পিরিয়ডের দিনগুলোতে পুজো করতে চান, বা স্নান না করে সন্ধ্যা দেন – কী হবে? আমার তো মনে হয় কাওকে প্রশ্ন করার কোনও দরকার নেই।

মন কে জিজ্ঞাসা করুন, যা উত্তর পাবেন, তাই করুন। একটি কবিতা –

পুজোর কাজে হাত দেয় না রজঃস্বলা নারী

তাই শুনে আজকে তোমার রাগ হচ্ছে ভারী।

আজ আছে হাতের কাছে বোতাম টিপে জল

উপোষ দেয়া দিনে ঘরে উপচে পড়ে ফল।

বাড়তি লম্বা ন্যাপকিনে স্বচ্ছন্দে ওঠা-বসা

গাড়ি বা বাইক চড়ে মন্দিরে তে যাওয়া।

সেদিনে জল বইতে হতো কলসি বালতি করে

বালতি ভরা কাপড় নিয়ে স্নানে যাওয়া পুকুরে।

নলকূপ ও থাকত নাকি সবার ঘরের কাছে?

পুকুরেও যেতে হতো তাদের অনেক দূরে।

গাড়ি, বাইক ছিল নাকো মন্দিরে তে যেতে

ওষুধ ও জুটত নাতো পেট, কোমর ব্যথা হলে।

সেইজন্য বাঁচত তারা ছুটির বিধান মেনে

একটু না হয় ভাবলে, শুধুই আঙুল না তুলে!

আজকে আছে স্বাধীনতা ইচ্ছে মত চলার,

অবৈজ্ঞানিক যা কিছু সব না মেনে চলার।

এবার বলি – ‘স্বামী সেবা’ নিয়ে! যদিও এই রকম কিছু কোন্ ‘লক্ষ্মীর পাঁচালী’ তে আছে আমি দেখিনি! এ নিয়ে শুধু এটুকুই বলব, নতুন শিক্ষা নাকি বলছে, প্রেম যখন খুশি যেখানে খুশি আসতে পারে এবং তার বায়োলজিক্যাল প্রকাশ ঘটলেও তা ন্যাচারাল।

কিন্তু যদি স্টাডি বলে, বাবা মায়ের ঝগড়া বাচ্চাদের ওপর বিশাল প্রভাব বিস্তার করে, তাহলে ভাবুন এই পরকীয়া বাচ্চাদের জন্য কতটা খারাপ হবে।আপনি যদি বলেন একজন পরকীয়া করলেও তার সংসারে খুব মন থাকবে – তাহলে তা ভুল ই হবে।

তবে যারা এইসবের সমালোচনা করেন, তারা নারীদের স্বামীর আত্মীয় পরিজনদের দেখতে না পারার বিষয়টি নিয়ে কিছু বলেন না! এখন যদি কেও বলেন, তবে পুরুষদের কী দায়িত্ব নেই? আমি বলব যে কোনও বই অনেক লেখক, কবিদের হাত ঘুরে আজ আমাদের কাছে এসেছে। তাদের সবাই যোগ্য ছিলেন এরকম ভাববেন না। মূল গ্রন্থ গুলি ই সম্পদ।

সেই গুলিতে এমন অনেক কিছুই নেই, যেসব পরে পরে যোগ করা হয়েছে। মা লক্ষ্মী, শুধুমাত্র নারীদের জন্য সু অভ্যাস এর নিয়ম বলবেন – এরকমটা আশাকরি কোনও পুরুষও ভাববেন না। তাছাড়া, এখন পুরুষরা তাদের স্ত্রীদের কম যত্ন করেন? একদম না।

কাজেই নারীদের উদ্দেশ্যে লেখা হলেও সু অভ্যাস বাড়ির সকলের জন্য। হিন্দু ধর্ম উদার ও সরল। এখানে নারীদের অসম্মান অসম্ভব, আর যেখানে দেখবেন দেব দেবীদের দিকেই প্রশ্ন উঠছে – বুঝবেন মূল গ্রন্থ পড়বার সময় এসেছে।পুরুষরা পুরোহিত হন, তাতে প্রশ্ন, আবার নারীদের জন্য নারী ব্রত – তাতেও প্রশ্ন! এখন নারীরা পুজো করব বলছেন, দুর্গাপূজা করবেন, খবরে পড়েছিলাম।

বিবাহের পৌরহিত্য নারীরা করছেন, করছেন অন্নপ্রাশনের কাজও৷আরেকটা কথা, আজ নারী পুরুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগোচ্ছে, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু তাই বলে পুরাতন বই থেকে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের ছাপ গুলো উবে যাবে এমনটা তো সম্ভব নয়! 

তবে সেগুলো নিয়ে বলা, লেখা অবশ্যই হতে পারে। একটু কেমন কেমন লাগে যখন দেখি বলতে বা লিখতে গিয়ে লেখক, কবিদের প্রায় সবাই তাদের প্রধান চরিত্রের মুখে বেশ কিছু ইংরেজি শব্দ বসিয়ে দেন! কেন? বাংলায় বিপ্লব করা যায় না?

#storyandarticle


Post a Comment

ধন্যবাদ । শুভেচ্ছা ।
© Web to Story - Site. All rights reserved. Developed by Jago Desain