যে কোনো সময় লেখা পোস্ট করা যায় । লিঙ্ক - https://webtostory.com/to-post-the-text/

DIPANKAR BERA

 


কবিতা নিয়ে দু-একটি কথা

কবিতা/ছড়া দিয়েই মানুষ জীবন শুরু করে। ছোট বাচ্চাদের আমরা ছড়া শুনিয়ে শুনিয়ে পড়াশুনা শুরু করাই। যে যার মাতৃভাষার মাধ্যমে।
তখন শিশু বুঝুক না বুঝুক আমরা সেই সব ছড়া বা কবিতা ছন্দ করে বারবার বলতেই থাকি। কারণ সেই শিশুর মধ্যে একটা তাল লয় তান বা ছন্দ কাজ করে। তাই সে সহজেই সেই ছড়া বা কবিতার লাইন চটপট বলতেও পারে।
এইভাবে শিশুরা গানও মনে রাখতে পারে খুব সহজে। ধীরে ধীরে নিজস্ব ক্লাসের পড়ার বইয়ে বা আবৃত্তির জন্য ছাত্রছাত্রীরা কবিতা মুখস্ত করে।
তারপর আস্তে আস্তে পড়াশোনা বাড়তে থাকে। পড়াশুনা শেষ করে যখন কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করে তখন কবিতা মানুষের জীবন থেকে হারিয়ে যায়।
ফলে কবিতার চর্চা কারা করে? যারা কবি হতে চায় বা কবির মত কিছু যারা লেখেন বা কবিতা ভালোবাসেন যে দু’চারজন।
তাদের আবার এক একটা গোষ্ঠী তৈরি হয়। তাদের মধ্যে কবিতার আলোচনা, কবিতার বই কেনাকাটা ইত্যাদি চলতে থাকে। এর বাইরে ঘরের লোককে অনেকে কবিতা শোনাতে পারে না। যদিও দু-একটা কবিতা শোনাতে পারে বা শোনাতে চায় তাতে কোন মন্তব্যই পায় না।
বাংলা ভাষাভাষী বেশিরভাগ মানুষের মধ্যে আজও রবীন্দ্র নজরুল সুকান্ত কবিদের কবিতা ঘোরাফেরা করে। সবার মনের মধ্যে এইসব কবিতা জেঁকে বসে আছে।
আবার আধুনিকতার নাম করে কি যে লিখছে কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। শব্দের সঙ্গে শব্দ জুড়ে সুন্দর তাল ছন্দ তৈরি হল কিন্তু কোন বার্তা পাওয়া গেল না। কল্পনার রঙে সাদা কালো ছাড়া আর কিছু এল না। কোন ক্যানভাস নেই। কোন আর্ট নেই।
ফলে এত কষ্ট কল্পনার মাঝে কবিতা ধীরে ধীরে সাধারণের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।
প্রখ্যাত কবিদের মধ্যে বেশ কিছু কবিতা একদম সাধারণ মানুষের জীবন যাত্রার সঙ্গে মিলিয়ে যে কোন মানুষকে ভাবনার বিষয়ে নিয়ে যায়। কল্পনায় রসবোধের যোগান দেয়।
আমরাও তখন ভাবি – বাহ, এ রকম করে তো ভাবা হয় নি। আর কিছু তো বুঝতেই পারি না এমন ভাবনা এল।
তবু কবিতা সাধারণের ধরা ছোঁয়ার বাইরে অলীক এক জগৎ। গল্প প্রবন্ধ উপন্যাস তবুও পড়ে কবিতা নৈব নৈব চ।
তাহলে তো মানুষ সেই রবীন্দ্র/নজরুল/ সুকান্তেই আটকে থাকতে চাইবে। আজও যেমন হেমন্ত, মান্নাই বেশির ভাগ লোক শোনে। ডিসপোজেবল ব্যবহার গানে কবিতায় হরদম চলছে। একবার শুনে বা পড়ে ছুঁড়ে ফেলে দিচ্ছে। তাতে দিশাহারা হয়ে পড়ছে ভবিষ্যৎ। লেখক পাঠক অথবা গায়ক শ্রোতা।
তাই হয়তো কবিতার বিষয়বস্তু ছাত্রছাত্রী এবং কবি ও কবিতা চর্চ্চানুরাগিনীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকে যাচ্ছে বারবার।
মূল বিষয় যদি স্পষ্ট হয় কবিত্বের মুন্সিয়ানায় তাকে সহজভাবে পরিবেশন করাই তো কবির কাজ। তাকে সাহিত্যের সমস্ত আঙিনায় ছড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে।
ছাত্রছাত্রীরা ছাড়াও যাতে কবিতা সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে তার চেষ্টা কবিদেরই করতে হবে।
যেমন যদি কোন অনুষ্ঠানে (এমনকি কবিতার অনুষ্ঠান হলেও) উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। এবার থেকে সে জায়গায় উদ্বোধনী আবৃত্তি পরিবেশন করার চেষ্টা করতে পারি। যদিও গানও কবিতা। তবু কাব্য রস যে আলাদা বিষয় তা মানুষের মনে ছড়িয়ে দেওয়ার দায়িত্ব কবি ও কবিতা চর্চা অনুরাগীদের নিতে হবে।
এই উদ্বোধনী আবৃত্তি কোন না কোন একদিন সফল হবেই হবে। কবি ও কবিতা চর্চা অনুরাগীদের হাত ধরে কবিতার আসরে পরিবেশিত হবেই হবে।

Post a Comment

ধন্যবাদ । শুভেচ্ছা ।
© Web to Story - Site. All rights reserved. Developed by Jago Desain