যে কোনো সময় লেখা পোস্ট করা যায় । লিঙ্ক - https://webtostory.com/to-post-the-text/

মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ

 



মায়ের মন

মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ
কেয়ামনির আবদার মেটাতে বার্থডে পার্টি হবে লিসা মঞ্জিলে ।আগে হলে সারাদিন একটা উত্তেজনা নিয়ে কেয়া মনি স্কুলের সময়টা পার করতো । কিন্তু এখন আবহাওয়া, দেশের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি, মানুষের দুর্ভোগ, হতাশা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর সময়টার যেখানে সংকট,সেখানে আপাতত দাদিমা বলেছিলেন —বাদল,চারদিকে এত মানুষের মৃত্যু, করোনার কারনে সবাই মিলে একটা অনিরাপদ সময় পার করছি —এসময়ে বার্থ ডে” না করলেই নয়?
বাদল তার মেয়েকে বোঝাতে পেরেছে ।কিন্তু কেয়ামনির মা মিসেস লিসা বড়লোক বাবার একমাত্র মেয়ে ।সে মানলে তো ।শত অসুখ বিসুখ,বন্যা খরাতেও বার্থ ডে মিস হয়নি।
লিসা মঞ্জিলটা বাদলের শশুরসাহেব গিফট দিলো ।এ বাড়ি থেকে সে বেরিয়ে যায়,ফেরে রাতে ।কোম্পানির ছুটি মেলেনি ।অফিসের কাজ সেরে আসতে দেরি হতে পারে ।কিন্তু লিসা’র নির্দেশ -দেরি করা যাবে না ।তাছাড়া ওর ইতালি ফেরত খালাতো ভাইকে বুঝিয়ে সুজিয়ে বাসায় আসতে রাজি করিয়েছে লিসা ।
কাজেই পার্টিটা যথারীতি জমজমাট করতে হবে ।
বিকেলেই লোকজন আসা শুরু করেছে ।নানান রকম পোশাক, নানান রকম ভাষা, সংস্কৃতি আর ভাবভঙ্গি ।পোশাকে কার জৌলুস কত বেশি, কার কটা কাপড়, কোন ছেলেমেয়ে দেশে ফিরে আসতে চায়না ইত্যাদি কলরব যেন,লিসা মঞ্জিল আজ দুলছে ।
সন্ধ্যার পর পরই বাচ্চাদের দলটা নাচছে,গাইছে।ছোটখাটো হাসি ঠাট্টা নিয়ে সেকি লুটোপুটি ।বড়রা এই ফাঁকে পাত্র পাত্রী দেখার সুযোগ করে নিয়েছে ।অপেক্ষাকৃত টিনেজ মেয়েরা একটু সতর্কে ।কখন আবার কোনো ছেলের শিকারী চোখ এসে সামনে পড়ে ধরা খেতে হবে ।অথবা কোনো বখাটে মেহমান চামে চামে নারীদের মধ্যে ঢুকে পড়ে যায়।
সবাই যখন আনন্দের আয়োজনে তুঙ্গে তখনই কেয়ামনি লক্ষ করে দাদিমা আসেনি ।একটু অস্থির হয়ে গেলো কেয়ামনি।
দাদিমার ঘরে ঢুকে দেখে তিনি বিছানায় উবু হয়ে বসে কী যেন সেলাই করছেন ।
কী ব্যাপার দাদিমা? তুমি আসোনি কেন, আমার আজকে বার্থ ডে না?
নারে ।আমার শরীরটা ভালো না ।তোর জন্য একটা রুমাল বানিয়েছি।দ্যাখতো, পছন্দ হয়েছে?
রুমালটা হাতে নিয়ে ভীষণ নাচানাচি শুরু করে কেয়া
খুবই চমৎকার হয়েছে ।থ্যাংকস দাদিমা ।
কেয়ার মা এসময়েই ওকে ডাকতে ডাকতে ঢুকে গেছেন ।হাতে একটা ছোটো লাল বাক্স দেখিয়ে বললেন, কেয়া—তুই এখানে? তোর বান্টু মামা তোকে হিরের আংটি পাঠিয়েছে ।
মামনি, দাদিমা আমাকে একটা রুমাল বানিয়ে দিয়েছে।দ্যাখো,কত্তো সুন্দর না?
রুমাল! এটা দিয়ে তুই কী করবি?তোর জিনি আন্টি খুঁজছে।ড্রয়িংরুমে যা।
কেয়ামনি চলে গেছে ।
দাদিমাকে মিসেস লিসা রুমালটার ব্যাপারে বললেন, খামাখা ওটা বানাতে গেলেন কেন? রুমাল দিয়ে কী করবে?
এইতো,নাতিকে কিছু একটা শখ করে বানিয়ে দিলাম ।
আচ্ছা, ঠিক আছে ।আপনি একটু আসেন তো ।কিচেনে অনেক থালা বাটি জমেছে ।শায়লা একা পারছেনা ।
মিসেস লিসা চলে গেছেন ড্রয়িংরুমে ।
কিচেনে দাদিমা আর গৃহকর্মী শায়লা ধোয়া মোছা শুরু করে ।
শায়লাও এধরনের কাজ নিয়ে দাদিমাকে খোঁটা দেয়—ছেলের বৌয়ের বাসায় থাকলে কাম কইরাই খাইতে হবে।—-এইটারে ধোওয়া হয় নাই ।এইটা শেষ করেন ।—
দাদিমা চোখ মুছতে মুছতে থালা বাটি নাড়া চাড়া করেন ।ছেলেটার কথা মনে করেই কিচ্ছু বলেন না ।ছেলেটার সংসারে শান্তিটা যে বড় দরকার

Post a Comment

ধন্যবাদ । শুভেচ্ছা ।
© Web to Story - Site. All rights reserved. Developed by Jago Desain